রাজ্য

রথযাত্রার দিনও বৃষ্টির সম্ভাবনা, দক্ষিণবঙ্গের তিন জেলায় ভারী বর্ষণের সতর্কতা

কলকাতা: আকাশ পরিষ্কার হওয়ার সম্ভাবনা এখনই কম। দক্ষিণ বাংলাদেশ এবং উত্তর-পূর্ব বিহারের উপর থাকা দু’টি ঘূর্ণাবর্তের সঙ্গে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর জলীয় বাষ্প ঢুকছে পশ্চিমবঙ্গে। তার জেরেই আগামী ৪৮ ঘণ্টায় উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সোমবার দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির দাপট আরও বাড়তে পারে। মুর্শিদাবাদ ও পূর্ব বর্ধমানের এক-দু’টি জায়গায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। কলকাতা-সহ আরও সাতটি জেলায় ভারী বৃষ্টি হতে পারে। বৃহস্পতিবার রথযাত্রার দিনও রাজ্যের বহু জায়গায় বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এক নজরে

  • আগামী ৪৮ ঘণ্টায় কয়েকটি জেলায় ৭ থেকে ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে
  • সোমবার মুর্শিদাবাদ ও পূর্ব বর্ধমানে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা
  • কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের সাত জেলায় ভারী বৃষ্টির সতর্কতা
  • রথযাত্রার দিন দুই ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুরে ভারী বৃষ্টি হতে পারে
  • বজ্রপাতের সময় খোলা জায়গায় অনুষ্ঠান না করার পরামর্শ

কেন বাড়ছে বৃষ্টি?

আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, উত্তর-পূর্ব বিহারের উপর সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩.১ কিলোমিটার উপরে একটি ঘূর্ণাবর্ত রয়েছে। দক্ষিণ বাংলাদেশ ও সংলগ্ন এলাকার উপর আরও একটি ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করছে প্রায় ৫.৮ কিলোমিটার উচ্চতায়।

এ ছাড়া উত্তর ভারতের উপর দিয়ে বিস্তৃত মৌসুমি অক্ষরেখা সক্রিয় রয়েছে। বঙ্গোপসাগর থেকে জলীয় বাষ্প ঢোকায় মেঘ তৈরির অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এই আবহাওয়ার কারণেই ১২ ও ১৩ জুলাই রাজ্যের কিছু এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে।

গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তরবঙ্গের কোচবিহার ও জলপাইগুড়ির কয়েকটি জায়গায় ভারী বৃষ্টি হয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের দমদমে চার সেন্টিমিটার এবং সিউড়িতে দুই সেন্টিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।

রবিবার কোথায় বেশি বৃষ্টির আশঙ্কা?

রবিবার দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। মুর্শিদাবাদ ও নদিয়ার এক-দু’টি জায়গায় ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সব জেলাতেই কোথাও কোথাও বজ্রপাত হতে পারে।

উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির তীব্রতা বেশি থাকবে। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ারে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। উত্তর দিনাজপুরের কয়েকটি জায়গায় ভারী বৃষ্টি হতে পারে।

সোমবার দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির দাপট বাড়বে

১৩ জুলাই, সোমবার মুর্শিদাবাদ ও পূর্ব বর্ধমানের এক-দু’টি জায়গায় ৭ থেকে ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে। এই দুই জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদিয়া ও বীরভূমের এক-দু’টি জায়গায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হতে পারে।

উত্তরবঙ্গের সব জেলাতেও সোমবার ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সব জায়গায় একটানা বৃষ্টি হবে, এমন নয়। কোনও জেলার এক বা দুই জায়গায় অল্প সময়ের মধ্যে বেশি বৃষ্টি হতে পারে।

মঙ্গলবার ও বুধবার কেমন থাকবে আবহাওয়া?

মঙ্গলবার দক্ষিণবঙ্গের বহু জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সব জেলাতেই কোথাও কোথাও বজ্রপাত হতে পারে। তবে ওই দিনের জন্য দক্ষিণবঙ্গের কোনও নির্দিষ্ট জেলায় ভারী বৃষ্টির আলাদা সতর্কতা দেওয়া হয়নি।

উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে মঙ্গলবার ভারী বৃষ্টি হতে পারে। বুধবার উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের বহু জায়গায় বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও বর্তমান বুলেটিনে ভারী বৃষ্টির জেলা-ভিত্তিক সতর্কতা নেই।

রথযাত্রার দিন কোথায় ভারী বৃষ্টি?

এ বছর রথযাত্রা ১৬ জুলাই, বৃহস্পতিবার। ওই দিন দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুরের এক-দু’টি জায়গায় ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।

কলকাতাতেও রথের দিন আকাশ সাধারণত মেঘলা থাকতে পারে। দিনের মধ্যে এক বা দু’বার বৃষ্টি অথবা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় ৩১ ডিগ্রি এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকতে পারে। তবে কলকাতার জন্য ভারী বৃষ্টির আলাদা সতর্কতা এখনও দেওয়া হয়নি।

উত্তরবঙ্গের বহু জায়গাতেও ওই দিন হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। বর্তমান পূর্বাভাসে রথযাত্রার দিনের জন্য উত্তরবঙ্গের কোনও নির্দিষ্ট জেলায় ভারী বৃষ্টির সতর্কতা নেই।

কখন রথ নিয়ে বেরোনো ভালো?

এখনই সকাল, দুপুর বা বিকেলের কোনও নির্দিষ্ট সময়কে সম্পূর্ণ বৃষ্টিমুক্ত বলা সম্ভব নয়। জেলা-ভিত্তিক পূর্বাভাস থেকে বৃষ্টি ঠিক কখন শুরু হবে, তা চার দিন আগে নিশ্চিত করে বলা যায় না।

রথ বের করার দুই থেকে তিন ঘণ্টা আগে স্থানীয় আবহাওয়া দেখে নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ। আকাশ কালো হয়ে এলে, ঘন ঘন বিদ্যুৎ চমকালে বা বজ্রধ্বনি শোনা গেলে অনুষ্ঠান কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ রাখা উচিত।

বড় রথের সঙ্গে ধাতব বা বৈদ্যুতিক সাজসজ্জা থাকলে আরও সতর্ক থাকতে হবে। ভেজা রাস্তায় চাকা পিছলে যাওয়া এবং ভিড়ের মধ্যে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

কী কী সমস্যা হতে পারে?

ভারী বৃষ্টির সময় নিচু রাস্তা ও আন্ডারপাসে সাময়িক জল জমতে পারে। দৃশ্যমানতা কমে যান চলাচলে সমস্যা হতে পারে। বজ্রপাতের কারণে খোলা মাঠে থাকা মানুষ বেশি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন।

উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি এলাকায় ধসের আশঙ্কা রয়েছে। তিস্তা, তোর্সা, জলঢাকা ও রায়ডাকের মতো কয়েকটি নদীর জলস্তর বাড়তে পারে। দাঁড়িয়ে থাকা ফসল এবং বাগানেরও ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।

বজ্রপাতের সময় গাছ, বিদ্যুতের খুঁটি বা দুর্বল ঘরের নিচে দাঁড়ানো উচিত নয়। পুকুর, নদী ও অন্য জলাশয়ের কাছ থেকেও দূরে থাকতে বলা হয়েছে। বর্তমান বুলেটিনে পশ্চিমবঙ্গ উপকূলের মৎস্যজীবীদের জন্য আলাদা সতর্কতা নেই।

আবহাওয়ার পূর্বাভাস সময়ের সঙ্গে বদলাতে পারে। তাই রথযাত্রার আগের দিন এবং অনুষ্ঠান শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে আবহাওয়া দফতরের নতুন সতর্কতা দেখে নেওয়া জরুরি।

তথ্যসূত্র: ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের কলকাতা আঞ্চলিক কেন্দ্রের ১২ জুলাই ২০২৬ দুপুর ১টার বিশেষ বুলেটিন ও জেলা-ভিত্তিক পূর্বাভাস।

Avatar photo

Bapan Biswas

বাপন বিশ্বাস স্টারফ্লিক্স বাংলা নিউজের প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক। তিনি সাইটের সম্পাদকীয় পরিকল্পনা, তথ্য যাচাই এবং সংবাদ প্রকাশনার দায়িত্বে রয়েছেন। দেশ, রাজ্য, রাজনীতি, আন্তর্জাতিক, ব্যবসা-বাণিজ্য, খেলাধুলা ও বিনোদনের খবর সরকারি নথি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং নির্ভরযোগ্য সূত্রের ভিত্তিতে সহজ বাংলায় পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই তাঁর লক্ষ্য। প্রকাশিত কোনও তথ্য ভুল বা অসম্পূর্ণ হলে সংশোধন নীতি অনুযায়ী তা দ্রুত সংশোধন করা হয়।