নবগ্রামের খাজুরিয়ায় ৬২ বছরের ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগ, প্রতিবেশীর খোঁজে পুলিশ
মুর্শিদাবাদ: সাতসকালে গ্রামের রাস্তার উপর এক বৃদ্ধকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলার অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা ছড়াল মুর্শিদাবাদের নবগ্রামে। মৃতের নাম নফল শেখ। তাঁর বয়স ৬২ বছর বলে পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। ঘটনায় প্রতিবেশী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর থেকে তাঁর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে দাবি পরিবারের। নবগ্রাম থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের জমি ও বাড়ি নির্মাণ সংক্রান্ত বিরোধের জেরেই নফল শেখের উপর হামলা চালানো হয়েছে। তবে বিরোধের প্রকৃতি, হামলার প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে আর কেউ যুক্ত ছিলেন কি না, তা এখনও তদন্তাধীন। অভিযোগের সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
এক নজরে
- ঘটনাটি ঘটেছে নবগ্রাম থানার খাজুরিয়া এলাকায়
- মৃত নফল শেখের বয়স ৬২ বছর
- পরিবারের অভিযোগে প্রতিবেশী হাবু শেখের নাম উঠে এসেছে
- জমি সংক্রান্ত পুরনো বিরোধের দাবি খতিয়ে দেখছে পুলিশ
- দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে
- অভিযুক্তের সন্ধানে তল্লাশি চলছে বলে জানা গিয়েছে
সকালে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন নফল শেখ
পরিবার সূত্রের দাবি, নফল শেখ দুধ বিক্রির কাজ করতেন। রবিবার সকালে প্রতিদিনের মতো তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন। দুধ বিক্রি করে ফেরার পর গবাদি পশুর জন্য ঘাস সংগ্রহ করতে সাইকেলে করে বের হন বলে পরিবারের সদস্যেরা জানিয়েছেন।
খাজুরিয়া মাঠ-সংলগ্ন রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় তাঁর পথ আটকানো হয় বলে অভিযোগ। সেখানেই ধারালো হাঁসুয়া নিয়ে তাঁর উপর হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি পরিবারের। স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন বলে একাধিক স্থানীয় প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে নবগ্রাম থানার পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে পৌঁছয়। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের ফল এবং ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা তথ্য তদন্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হবে।
প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে পরিবারের অভিযোগ
মৃতের পরিবারের অভিযোগে হাবু শেখ নামে এক প্রতিবেশীর নাম উঠে এসেছে। পরিবারের দাবি, নফল শেখের সঙ্গে ওই ব্যক্তির জমির সীমানা এবং বাড়ি নির্মাণকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।
সেই পুরনো বিরোধ থেকেই হামলা চালানো হয়েছে বলে পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তকে এলাকায় পাওয়া যাচ্ছে না। পুলিশ তাঁর সম্ভাব্য অবস্থানের খোঁজ করছে বলে জানা গিয়েছে।
তবে পারিবারিক অভিযোগকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা যাবে না। জমি নিয়ে বিরোধ ছিল কি না, আগে কোনও অভিযোগ থানায় দায়ের হয়েছিল কি না এবং ঘটনার দিন ঠিক কী হয়েছিল—এসব পুলিশি তদন্তেই পরিষ্কার হবে।
তদন্তে কোন বিষয়গুলি গুরুত্বপূর্ণ?
প্রকাশ্য রাস্তায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনার কোনও প্রত্যক্ষদর্শী রয়েছেন কি না, তা খুঁজে দেখা তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আশপাশের বাড়ি বা প্রতিষ্ঠানে নজরদারি ক্যামেরা থাকলে সেই দৃশ্যও পরীক্ষা করা হতে পারে।
পাশাপাশি, দুই পরিবারের মধ্যে আগে কোনও বিরোধ, হুমকি বা ঝামেলার লিখিত অভিযোগ ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার, অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরেই ঘটনার পূর্ণ চিত্র স্পষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পুলিশ এখনও প্রকাশ্যে তদন্তের বিস্তারিত জানায়নি। ফলে কে কোথায় নফল শেখের পথ আটকেছিলেন, হামলার সময় আর কেউ উপস্থিত ছিলেন কি না এবং ঘটনার পিছনে কেবল জমি-বিবাদ নাকি অন্য কোনও কারণ রয়েছে—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনও নিশ্চিত নয়।
কোন তথ্য নিশ্চিত, কোনটি অভিযোগ?
নফল শেখের মৃত্যু, নবগ্রামের খাজুরিয়া এলাকায় ঘটনাটি ঘটা এবং নবগ্রাম থানার পুলিশের তদন্ত শুরু করার তথ্য একাধিক প্রতিবেদনে মিলেছে। দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।
অন্যদিকে, জমি-বিবাদকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিত হামলা চালানোর দাবি মূলত মৃতের পরিবারের। হাবু শেখের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগও এখনও তদন্তাধীন এবং আদালতে প্রমাণিত নয়। পুলিশি তদন্ত শেষ হওয়ার আগে তাঁকে দোষী হিসেবে উল্লেখ করা ঠিক হবে না।
গ্রামে উদ্বেগ, পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপের অপেক্ষা
সকালের ব্যস্ত সময়ে গ্রামের রাস্তায় এমন ঘটনার অভিযোগ ওঠায় খাজুরিয়া এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য এবং সম্ভাব্য প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান সংগ্রহ করছে পুলিশ বলে জানা যাচ্ছে।
এখন অভিযুক্তের সন্ধান, সম্ভাব্য অস্ত্র উদ্ধার এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনই তদন্তের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘটনার কারণ বা তদন্তের অগ্রগতি জানালে সেই তথ্যের ভিত্তিতে খবরটি হালনাগাদ করা প্রয়োজন।
