খেলাধুলা

মরক্কোকে হারিয়ে সেমিফাইনালে ফ্রান্স, এমবাপের গোড়ালির চোট নিয়ে সাময়িক উদ্বেগ

ফক্সবরো: প্রথমার্ধে পেনাল্টি নষ্ট করেছিলেন। কিন্তু সেই হতাশা বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেননি কিলিয়ান এমবাপে। দ্বিতীয়ার্ধে তাঁর দুর্দান্ত গোলেই মরক্কোর প্রতিরোধ ভাঙল। এর ছয় মিনিট পর ব্যবধান বাড়ালেন উসমান দেম্বেলে। মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে টানা তৃতীয় বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিল ফ্রান্স।

বৃহস্পতিবার ম্যাসাচুসেটসের ফক্সবরোয় বোস্টন স্টেডিয়ামে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়। এমবাপে ৬০ মিনিটে এবং দেম্বেলে ৬৬ মিনিটে গোল করেন। এই জয়ে ১৪ জুলাই ডালাসে সেমিফাইনাল খেলবে ফ্রান্স। প্রতিপক্ষ হবে স্পেন ও বেলজিয়ামের কোয়ার্টার ফাইনালের জয়ী দল।

শুরু থেকেই ফ্রান্সের চাপ

ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল নিয়ে মরক্কোর রক্ষণে চাপ তৈরি করে ফ্রান্স। চতুর্থ মিনিটেই গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন এমবাপে। তাঁর নিচু শট কোনওক্রমে বাইরে পাঠিয়ে দেন মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু। ২৮ মিনিটে মরক্কোর বক্সে নৌসের মাজরাউইয়ের চ্যালেঞ্জে পড়ে যান এমবাপে। রেফারি পেনাল্টির নির্দেশ দিলে স্পট কিক নিতে এগিয়ে আসেন ফরাসি অধিনায়ক।

এমবাপের নিচু শটের দিক ঠিক বুঝেছিলেন বুনু। অপেক্ষা করে বলটি ধরে ফেলেন তিনি। ফ্রান্সের হয়ে ২০২০ সালের ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপের পর এটিই এমবাপের প্রথম পেনাল্টি ব্যর্থতা। পেনাল্টি নষ্ট হলেও ফ্রান্সের আক্রমণের গতি কমেনি। প্রথমার্ধের সংযুক্ত সময়ে লুকাস দিনিয়ের শক্তিশালী দূরপাল্লার শট ক্রসবারে লাগে। অন্যদিকে, প্রথমার্ধে ফ্রান্সের গোল লক্ষ্য করে কোনও শট রাখতে পারেনি মরক্কো।

পেনাল্টি নষ্টের জবাব গোলেই

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও ফ্রান্স সুযোগ তৈরি করতে থাকে। অবশেষে ৬০ মিনিটে গোল আসে। বক্সের ভিতর থেকে বাঁকানো শটে বুনুকে পরাস্ত করেন এমবাপে। চলতি বিশ্বকাপে এটি তাঁর অষ্টম গোল। বিশ্বকাপের তিনটি আসর মিলিয়ে এমবাপের গোলসংখ্যা এখন ২০। তিনি সর্বকালের বিশ্বকাপ গোলদাতাদের তালিকায় লিয়োনেল মেসির চেয়ে মাত্র একটি গোলে পিছিয়ে রয়েছেন। মেসির মোট গোল ২১।

২৭ বছর বয়সে বিশ্বকাপে ২০টি ম্যাচ খেলা সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলারও হয়েছেন এমবাপে। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে ফ্রান্সের হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার ক্ষেত্রে প্রাক্তন অধিনায়ক উগো লরিসের রেকর্ড স্পর্শ করেছেন তিনি। চলতি প্রতিযোগিতার সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় মেসির সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে রয়েছেন এমবাপে। দু’জনেরই গোল আটটি।

ছয় মিনিটের মধ্যে দ্বিতীয় গোল

এমবাপের গোলের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই আবার গোল খায় মরক্কো। ৬৬ মিনিটে বক্সের ভিতরে পাওয়া ফাঁকা জায়গা কাজে লাগিয়ে নিচু শটে বল জালে পাঠান দেম্বেলে। চলতি বিশ্বকাপে এটি তাঁর পঞ্চম গোল। এমবাপে, দেম্বেলে এবং মাইকেল ওলিসের গতিশীল আক্রমণের সামনে মরক্কোকে ম্যাচের অধিকাংশ সময় রক্ষণ সামলাতেই ব্যস্ত থাকতে হয়েছে।

মরক্কোর প্রথম লক্ষ্যে রাখা শট আসে ৮৪ মিনিটে। ততক্ষণে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি ফ্রান্সের হাতে। নকআউট পর্বের টানা তিনটি ম্যাচে গোল না খাওয়াও ফরাসি রক্ষণের ধারাবাহিকতার প্রমাণ। চার বছর আগে কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালেও মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়েছিল ফ্রান্স। এবার কোয়ার্টার ফাইনালে একই ব্যবধানে হেরে আফ্রিকার দলটির অভিযান শেষ হল। ম্যাচের পর মরক্কোর কোচ মহম্মদ ওউহবি স্বীকার করেন, সুযোগ তৈরি এবং বলের ব্যবহারে ফ্রান্স তাঁর দলের চেয়ে এগিয়ে ছিল।

এমবাপের চোট কতটা গুরুতর?

ম্যাচের শেষ দিকে ডান গোড়ালিতে অস্বস্তি অনুভব করেন এমবাপে। নির্ধারিত সময়ের প্রায় ১৩ মিনিট বাকি থাকতে তাঁকে তুলে নিয়ে জঁ-ফিলিপ মাতেতাকে নামান কোচ দিদিয়ের দেশঁ। বেঞ্চে বসে এমবাপের ডান গোড়ালিতে বরফের প্যাক লাগানো হয়। স্বাভাবিকভাবেই সেমিফাইনালের আগে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল ফরাসি শিবিরে।

তবে ম্যাচের পর এমবাপে জানান, গোড়ালিতে আঘাত লাগলেও তিনি ভালো আছেন। দেশঁও বলেন, অস্বস্তি সামান্য এবং প্রাথমিকভাবে গুরুতর কিছু মনে হচ্ছে না। তার পরেও দলের পরবর্তী অনুশীলন এবং চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ হবে। তাই এমবাপেকে সেমিফাইনালে অনিশ্চিত বলা যেমন ঠিক হবে না, তেমনই মেডিক্যাল মূল্যায়নের আগে তাঁকে শতভাগ ফিট ঘোষণা করাও তাড়াহুড়ো হবে।

পেনাল্টি নষ্ট নিয়ে কী বললেন দেশঁ?

পেনাল্টি নষ্ট হওয়ায় দেশঁ এমবাপের উপর ক্ষুব্ধ ছিলেন—এমন কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। বরং ম্যাচের পর ফরাসি কোচ জানান, এমবাপের আত্মবিশ্বাস নিয়ে তাঁর কোনও সংশয় ছিল না। দেশঁর বক্তব্য, পেনাল্টি আটকে যাওয়ার পরেও দল লক্ষ্য থেকে সরে যায়নি। সুযোগ নষ্ট হলেও ফুটবলাররা ধৈর্য ধরে আক্রমণ চালিয়ে গিয়েছেন এবং দ্বিতীয়ার্ধে তার ফল পেয়েছেন। দেশঁ একই সঙ্গে সতর্ক করেছেন, শেষ চারে পৌঁছনো বড় সাফল্য হলেও কাজ এখনও শেষ হয়নি। ফাইনালের চিন্তা করার আগে সেমিফাইনালের প্রতিপক্ষ এবং প্রস্তুতিতেই মন দিতে চান তিনি।

টানা তৃতীয় বিশ্বকাপে শেষ চারে ফ্রান্স

২০১৮ সালে বিশ্বকাপ জিতেছিল ফ্রান্স। ২০২২ সালে ফাইনালে পৌঁছলেও আর্জেন্টিনার কাছে টাইব্রেকারে হেরে যায় তারা। এবারও শেষ চারে উঠে টানা তিনটি বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল খেলার যোগ্যতা অর্জন করল দেশঁর দল।

সেমিফাইনালে জিতলে টানা তৃতীয়বার বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছবে ফ্রান্স। এর আগে পশ্চিম জার্মানি এবং ব্রাজিলই পরপর তিনটি বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলার কৃতিত্ব অর্জন করেছিল। ফ্রান্স সফল হলে তৃতীয় দেশ হিসেবে সেই তালিকায় নাম লেখাবে।

১৪ জুলাই ডালাসে ফ্রান্সের সেমিফাইনাল। তবে স্পেন-বেলজিয়াম কোয়ার্টার ফাইনাল শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রতিপক্ষ নিশ্চিত নয়।

তথ্যসূত্র: ফিফার ম্যাচ রিপোর্ট, রয়টার্স ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ম্যাচ-পরবর্তী প্রতিবেদন।

Moumita Biswas

মৌমিতা বিশ্বাস স্টারফ্লিক্স বাংলা নিউজের সংবাদলেখক ও সম্পাদকীয় দলের সদস্য। তিনি দেশ, রাজ্য, রাজনীতি, আন্তর্জাতিক, বিনোদন ও জনস্বার্থের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে কাজ করেন। সরকারি নথি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং নির্ভরযোগ্য সূত্র যাচাই করে সহজ ও স্বাভাবিক বাংলায় তথ্য পাঠকের কাছে তুলে ধরাই তাঁর লক্ষ্য। প্রকাশিত কোনও তথ্য ভুল বা অসম্পূর্ণ হলে সংশোধন নীতি অনুযায়ী তা দ্রুত সংশোধন করা হয়।