দেশ

সুইৎজারল্যান্ডে যাওয়ার কথা বলে নিখোঁজ হায়দরাবাদের দম্পতি, আর্থিক লেনদেনও খতিয়ে দেখছে পুলিশ

হায়দরাবাদ: সুইৎজারল্যান্ডে বেড়াতে যাওয়ার কথা জানিয়ে বাড়ি থেকে বেরোনোর পর হায়দরাবাদের এক দম্পতির খোঁজ মিলছে না। নিখোঁজ দম্পতি পাব্বা চন্দ্রশেখর ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না। তাঁদের মেয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে চেরলাপল্লি থানার পুলিশ নিখোঁজ মামলা নথিভুক্ত করে অনুসন্ধান শুরু করেছে।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ৫১ বছর বয়সি চন্দ্রশেখর একজন ব্যবসায়ী। তাঁর স্ত্রী স্বপ্নার বয়স ৪২ বছর। তাঁরা হায়দরাবাদের চেরলাপল্লির বাসিন্দা। পরিবারের কাছে ২২ জুন সুইৎজারল্যান্ডে যাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন তাঁরা। তবে তাঁদের সম্পূর্ণ ভ্রমণসূচি, থাকার জায়গা বা ফেরার তারিখ পরিবারের জানা ছিল না বলে পুলিশ সূত্রের দাবি।

অভিযোগে কী জানিয়েছেন তাঁদের মেয়ে?

দম্পতির বড় মেয়ে শ্রেয়া একটি প্রযুক্তি সংস্থায় কর্মরত। তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, বাবা-মায়ের ফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি। ফোন দু’টি বন্ধ অথবা নেটওয়ার্কের বাইরে পাওয়া যাচ্ছিল।

পুলিশের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী, শ্রেয়া ও তাঁর বোনের বয়স যথাক্রমে ২৩ ও ২১ বছর। বাবা-মায়ের নির্দিষ্ট গন্তব্য বা হোটেলের তথ্য তাঁদের কাছে না থাকায় সুইৎজারল্যান্ডে সরাসরি খোঁজ নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।

শেষ যোগাযোগের তারিখ নিয়ে অসঙ্গতি

পরিবারের সঙ্গে দম্পতির শেষ যোগাযোগ ঠিক কবে হয়েছিল, তা নিয়ে প্রকাশিত তথ্যে মিল নেই। একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৮ জুলাই শ্রেয়া পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন এবং বাবা-মা বাড়ি ছাড়ার পর থেকেই তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না।

অন্য কয়েকটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ৮ জুলাই পর্যন্ত তাঁরা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগে ছিলেন। এই দুই তথ্য একই সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না। পুলিশের অভিযোগপত্রের পূর্ণ বিবরণ প্রকাশ্যে না আসা পর্যন্ত শেষ যোগাযোগের নির্দিষ্ট সময় নিশ্চিতভাবে উল্লেখ না করাই নিরাপদ।

তাঁরা কি সত্যিই সুইৎজারল্যান্ডে পৌঁছেছিলেন?

পরিবারকে বিদেশে যাওয়ার কথা জানানো হলেও দম্পতি সত্যিই সুইৎজারল্যান্ডে প্রবেশ করেছিলেন কি না, তা নিশ্চিত করতে পুলিশ বিমানবন্দর ও অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। তাঁদের যাত্রাপথ ও বিদেশযাত্রার নথিও পরীক্ষা করা হচ্ছে।

ফলে ঘটনাটিকে এখনই সুইৎজারল্যান্ডে পর্যটক নিখোঁজ হওয়ার নিশ্চিত ঘটনা বলা যাচ্ছে না। পুলিশের নথিতে আপাতত এটি নিখোঁজ মামলা। তাঁদের বিদেশযাত্রার নথি যাচাই হওয়ার পরই অবস্থান সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ কী?

নিখোঁজ তদন্তের মধ্যেই চন্দ্রশেখরের ব্যবসায়িক লেনদেন নিয়ে অভিযোগ সামনে এসেছে। পুলিশ সূত্র উদ্ধৃত করে প্রকাশিত কয়েকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেশি লাভ ফেরতের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা সংগ্রহের অভিযোগ রয়েছে।

কয়েকটি প্রতিবেদনে অভিযোগের অঙ্ক প্রায় ৫০ কোটি টাকা বলা হয়েছে। কোথাও ৬০ জনের বেশি, আবার কোথাও ৭০ জনের বেশি বিনিয়োগকারীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে মোট অর্থ ও অভিযোগকারীর সংখ্যা এখনও সরকারি ভাবে নিশ্চিত নয়।

চন্দ্রশেখর দীর্ঘদিন ধরে একটি সিমেন্ট অর্থায়ন ও চিটফান্ড-সংক্রান্ত ব্যবসা চালাতেন বলে একটি স্থানীয় প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের একাংশ টাকা ফেরতের দাবিতে তাঁর বাড়ির সামনে জড়ো হয়েছিলেন বলেও সেখানে জানানো হয়েছে। তবে অভিযোগগুলির বিচার বা পুলিশি তদন্ত এখনও সম্পূর্ণ হয়নি।

আর্থিক অভিযোগে মামলা হয়েছে কি?

নিখোঁজ মামলা নথিভুক্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত। তবে আর্থিক অভিযোগের ভিত্তিতে পৃথক প্রতারণার মামলা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রকাশিত তথ্যে পার্থক্য রয়েছে।

প্রথম দিকে প্রকাশিত কয়েকটি প্রতিবেদনে পুলিশ কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতারণার মামলা ঘোষণা করেনি বলে জানানো হয়েছিল। পরে প্রকাশিত একটি স্থানীয় প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কমিশনারকে উদ্ধৃত করে মামলা নথিভুক্ত হওয়ার দাবি করা হয়েছে। এফআইআর নম্বর এবং কোন ধারায় মামলা হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ সরকারি বিবরণ এখনও প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।

তাই “দম্পতি ৫০ কোটি টাকা প্রতারণা করে পালিয়েছেন”—এভাবে লেখা ঠিক হবে না। আর্থিক অনিয়ম, মোট অর্থের পরিমাণ এবং অভিযুক্তদের ভূমিকা এখনও তদন্ত ও অভিযোগের স্তরে রয়েছে।

নিখোঁজ হওয়ার সঙ্গে আর্থিক অভিযোগের যোগ আছে কি?

পুলিশ দম্পতির অবস্থান খোঁজার পাশাপাশি তাঁদের ব্যবসায়িক লেনদেনও পরীক্ষা করছে। সম্ভাব্য আর্থিক জটিলতার কারণে তাঁরা স্বেচ্ছায় যোগাযোগ বন্ধ করেছিলেন কি না, সেই দিকটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। তবে এই সম্ভাবনার পক্ষে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

তাঁরা কোনও বিপদের মুখে পড়েছেন, স্বেচ্ছায় আত্মগোপন করেছেন, নাকি অন্য কোনও কারণে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে—কোনও সম্ভাবনাই এখনও প্রমাণিত নয়।

কোন প্রশ্নগুলির উত্তর এখনও মেলেনি?

তদন্তে এখনও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট হয়নি—

  • দম্পতি ভারত ছেড়েছিলেন কি না
  • তাঁরা সুইৎজারল্যান্ডে প্রবেশ করেছিলেন কি না
  • পরিবারের সঙ্গে তাঁদের শেষ যোগাযোগের সঠিক সময়
  • আর্থিক অভিযোগের প্রকৃত অঙ্ক ও অভিযোগকারীর সংখ্যা
  • নিখোঁজ হওয়ার সঙ্গে ব্যবসায়িক লেনদেনের কোনও সম্পর্ক রয়েছে কি না

পুলিশ আপাতত নিখোঁজ অভিযোগের ভিত্তিতে দম্পতির সন্ধান চালাচ্ছে। আর্থিক অনিয়ম এবং ইচ্ছাকৃতভাবে আত্মগোপনের সম্ভাবনাও তদন্তের আওতায় রয়েছে; কোনও অভিযোগই এখনও আদালতে প্রমাণিত হয়নি।

তথ্যসূত্র: চেরলাপল্লি থানায় দায়ের হওয়া নিখোঁজ অভিযোগ নিয়ে প্রকাশিত তথ্য, পুলিশি তদন্তের বিবরণ এবং বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন।

Moumita Biswas

মৌমিতা বিশ্বাস স্টারফ্লিক্স বাংলা নিউজের সংবাদলেখক ও সম্পাদকীয় দলের সদস্য। তিনি দেশ, রাজ্য, রাজনীতি, আন্তর্জাতিক, বিনোদন ও জনস্বার্থের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে কাজ করেন। সরকারি নথি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং নির্ভরযোগ্য সূত্র যাচাই করে সহজ ও স্বাভাবিক বাংলায় তথ্য পাঠকের কাছে তুলে ধরাই তাঁর লক্ষ্য। প্রকাশিত কোনও তথ্য ভুল বা অসম্পূর্ণ হলে সংশোধন নীতি অনুযায়ী তা দ্রুত সংশোধন করা হয়।