নিউটাউনের গেস্ট হাউস থেকে ২ কোটি ২০ লক্ষ টাকা উদ্ধার, অর্থের উৎস খুঁজছে পুলিশ
কলকাতা: নিউটাউনের একটি গেস্ট হাউসে রাতভর তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নগদ উদ্ধার করল বিধাননগর পুলিশ। প্রাথমিক গণনায় উদ্ধার হওয়া অর্থের পরিমাণ প্রায় ২ কোটি ২০ লক্ষ টাকা বলে পুলিশ সূত্রে খবর। তবে উদ্ধার অর্থের পূর্ণাঙ্গ সরকারি হিসাব এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
সোমবার রাতে নিউটাউনের ওই গেস্ট হাউসে অভিযান শুরু হয়। বিধাননগর পুলিশের সাইবার অপরাধ শাখা ও গোয়েন্দা বিভাগের আধিকারিকেরা তল্লাশিতে অংশ নেন। একটি প্রতিবেদনে টেকনো সিটি থানার পুলিশও অভিযানে ছিল বলে জানানো হয়েছে। রাতভর তল্লাশি ও টাকা গোনার কাজ চলে।
সাইবার প্রতারণার অভিযোগ থেকে তদন্তের সূত্র
পুলিশ সূত্রের দাবি, একটি সাইবার প্রতারণার অভিযোগের তদন্ত করতে গিয়ে নিউটাউনের ওই গেস্ট হাউসের সন্ধান মেলে। প্রাথমিক তদন্তে ঝাড়খণ্ডের দুই বাসিন্দার নাম সামনে আসে। তাঁরা ওই গেস্ট হাউসে অবস্থান করছিলেন বলে খবর।
অভিযানের সময় ওই দুই ব্যক্তিকে সেখানে পাওয়া যায় এবং তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়। পরবর্তী খবরে গেস্ট হাউস থেকে মোট সাতজনকে আটক করার কথা জানা গিয়েছে। তাঁদের প্রত্যেকের ভূমিকা একই কি না, তা এখনও পরিষ্কার নয়।
এখন পর্যন্ত তাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই তদন্ত শেষ হওয়ার আগে বা আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে এই অর্থের মালিক বা কোনও অপরাধচক্রের সদস্য বলা যাবে না।
কোথা থেকে এল এত নগদ?
তদন্তকারীদের প্রধান লক্ষ্য উদ্ধার হওয়া টাকার উৎস শনাক্ত করা। কারা ওই অর্থ গেস্ট হাউসে এনেছিলেন, কী উদ্দেশ্যে টাকা রাখা হয়েছিল এবং তা অন্য কোথাও পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল কি না—এই প্রশ্নগুলির উত্তর খোঁজা হচ্ছে।
অভিযোগকারী কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এই অর্থ নেওয়া হয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি আটক ব্যক্তিদের মোবাইল ফোন, আর্থিক লেনদেন এবং যোগাযোগের তথ্য থেকে কোনও সূত্র পাওয়া যায় কি না, তা দেখা হতে পারে।
তবে উদ্ধার নগদ সাইবার প্রতারণা থেকেই এসেছে—এ কথা এখনও প্রমাণিত নয়। পুলিশ সূত্রে সাইবার প্রতারণার অভিযোগের কথা সামনে এলেও, টাকার সঙ্গে সেই মামলার সরাসরি যোগ এখনও তদন্তাধীন।
হাওয়ালা-যোগ নিয়ে কেন সন্দেহ?
বিপুল পরিমাণ নগদ গেস্ট হাউসে রাখার উদ্দেশ্য কী ছিল, তা ঘিরে হাওয়ালা লেনদেনের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার বাইরে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় অর্থ পাঠানোর কোনও ব্যবস্থা সক্রিয় ছিল কি না, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
কিন্তু এই পর্যায়ে হাওয়ালা-যোগকে নিশ্চিত তথ্য বলা যাবে না। অর্থের উৎস, সম্ভাব্য প্রাপক, লেনদেনের নথি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়া গেলে তবেই সেই সন্দেহের ভিত্তি স্পষ্ট হবে।
সিসিটিভি ফুটেজে নজর
সূত্রের দাবি, গেস্ট হাউসের কয়েকটি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ফুটেজে কারা গেস্ট হাউসে প্রবেশ করেছিলেন, কখন বেরিয়েছেন এবং তাঁদের সঙ্গে কোনও ব্যাগ বা যানবাহন ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তবে ফুটেজ পরীক্ষা করে পুলিশ ঠিক কী তথ্য পেয়েছে, তা এখনও প্রকাশ করা হয়নি। ফলে কোনও ব্যক্তি বা গাড়িকে টাকা পরিবহণের সঙ্গে যুক্ত করে নিশ্চিতভাবে লেখা যাবে না।
কোন তথ্যগুলি এখনও নিশ্চিত নয়?
প্রাথমিক কয়েকটি প্রতিবেদনে সোনা, টাকা গোনার যন্ত্র এবং একাধিক যানবাহন বাজেয়াপ্ত করার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু পুলিশের তরফে উদ্ধার সামগ্রীর পূর্ণাঙ্গ তালিকা এখনও প্রকাশ্যে আনা হয়নি।
একইভাবে কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তি, ব্যবসায়ী বা নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় পরিচিত কারও সঙ্গে এই ঘটনার যোগ রয়েছে কি না, তা-ও পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি। প্রমাণ বা পুলিশি বিবৃতি ছাড়া কারও নাম এই ঘটনায় যুক্ত করা ঠিক হবে না।
তদন্তের পরবর্তী ধাপ
উদ্ধার অর্থ কার, সেই টাকার বৈধ হিসাব রয়েছে কি না এবং অর্থটি কোথায় পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল—এই তিনটি প্রশ্নের উত্তর এখন তদন্তের কেন্দ্রে। আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং বৈদ্যুতিন তথ্য বিশ্লেষণের পর আরও নাম সামনে আসতে পারে।
প্রয়োজনে আয়কর বিভাগ বা অন্য আর্থিক তদন্তকারী সংস্থার সাহায্য নেওয়া হতে পারে। তবে কোনও সংস্থাকে ইতিমধ্যেই তদন্তে যুক্ত করা হয়েছে বলে এখনও নিশ্চিত তথ্য নেই।
এই মুহূর্তে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে, নিউটাউনের একটি গেস্ট হাউস থেকে প্রায় ২ কোটি ২০ লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়েছে। সাতজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অর্থের উৎস, সম্ভাব্য সাইবার প্রতারণা এবং হাওয়ালা-যোগ—সবকিছুই এখনও তদন্তাধীন।
